‘এক সপ্তাহের মধ্যে’ ত্রাণ না পেলে মারা যাবে শত শত ইয়েমেনি

0

আন্তর্জাতিকঃ সৌদি আরবের নেতৃত্বে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপ করায় এবং এর ফলে ত্রাণ কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দেশটিতে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।যদি এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় এবং ত্রাণ পৌঁছানো না যায়, জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, তাহলে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হবে ইয়েমেনে।জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সহকারী মহাসচিব মার্ক লোকক গৃহযুদ্ধকবলিত ইয়েমেনের বিরুদ্ধে অবরোধ তুলে নিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইয়েমেনি হুতি বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর সোমবার স্থল, আকাশ ও নৌপথে ইয়েমেনে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ইয়েমেনে আন্তর্জাতিক ত্রাণসহায়তা পৌঁছানো দুরুহ হয়ে পড়েছে।রিয়াদে নিক্ষিত ইয়েমেনের শিয়াপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিয়ে তা ধ্বংস করে সৌদি বাহিনী। এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পেছনে ইরানের সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ করে রিয়াদ। কিন্তু ইরান অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।সৌদি আরব দাবি করেছে, ইরান যেন ইয়েমেনে বিদ্রোহীদের কাছে অস্ত্র পাঠাতে না পারে, সেজন্য এই অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে হুতি বিদ্রোহীরা।

বুধবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ইয়েমেন পরিস্থিতির ওপর ব্রিফ করেন মার্ক লোকক। ইয়েমেনের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের ফলে লাখ লাখ ইয়েমেনি শিশু, নারী ও বৃদ্ধ এমন কি যেকোনো বয়সি মানুষ মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানান তিনি।নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘যদি অবরোধ প্রত্যাহার করা না হয়, তাহলে ইমেয়েনে দুর্ভিক্ষ হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত কয়েক দশকে দেখা দুর্ভিক্ষগুলোর মধ্যে এটি হবে সবচেয়ে বড়, যার শিকার হবে লাখ লাখ মানুষ।এ সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘ হুঁশিয়ার করে বলেছিল, জীবন বাঁচানোর মতো ন্যূনতম ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ ইয়েমেনি ভয়াবহ বিপর্যয়ের হুমকিতে রয়েছে। কলেরায় আক্রান্ত ৯ লাখ মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক ক্লোরিন ট্যাবলেটের একটি চালান আটকে দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।জাতিসংঘ বলেছে, এ মুহূর্তে ৭ লাখ ইয়েমেনি দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে। আরো বলা হয়েছে, ইয়েমেনিরা এখন তাদের জীবন বাঁচানোর মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, ওষুধ আমদানি করে থাকে। কিন্তু আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে মারাত্মক বিপর্যয় হবে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি ও আলজাজিরা অনলাইন

Share.

Leave A Reply