ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সাথে গোপন বৈঠক : সমালোচনার মুখে ব্রিটিশ মন্ত্রীর পদত্যাগ

0

আন্তর্জাতিকঃ অবশেষে তীব্র সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন ব্রিটিশ ডিএফআইডি সেক্রেটারী প্রীতি প্যাটেল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে সরকারকে না জানিয়ে ইসরায়েলে একাদিক গোপন মিটিং।ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্রীতি প্যাটেলকে তার সরকারী আফ্রিকা সফর সংক্ষিপ্ত করে ব্রিটেনে ফিরে আসার নিদের্শ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। যদিও এর আগে প্রীতি প্যাটেল এ ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করেন। তারপরও তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকের কথা গোপন করেন। আর এ কারনে তাঁর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে ব্রিটেনের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে।

গত সপ্তাহে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রীতি দাবি করেন, ব্রিটেনের ফরেন অফিস বৈঠকগুলোর বিষয়ে জানত। কিন্তু ফরেন অফিস জানায়, তারা এসব বৈঠকের বিষয়ে অবগত ছিল না। ইসরায়েলে নিযুক্ত ব্রিটেনের দূতাবাসকেও এসব বৈঠকের বিষয়ে জানানো হয়নি।প্যাটেল নিজের ভুল স্বীকার করে গত মঙ্গলবার ক্ষমা চেয়েছেন। এতে বিতর্ক আরও জোরালো হয়।বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, গত আগস্ট মাসে ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে ইসরায়েলে যান প্রীতি প্যাটেল। ওই সময়ে দুই দিনে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে মোট ১২টি বৈঠক করেন। ওই সব বৈঠক থেকে ফিরে প্রীতি ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর জন্য যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক সাহায্যের অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করেন। গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলি সেনাদের পরিচালিত মানবিক সেবা কার্যক্রমের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিজ দপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন। ১৯৮১ সালে সিরিয়ান ভূখন্ড গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরায়েল। দখলকৃত এই ভূমিকে ইসরায়েলের বলে স্বীকার করে না যুক্তরাজ্য। প্রীতির সুপারিশ ওই সব গোপন বৈঠকের প্রভাব বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকগুলোতে প্যাটেলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঘোর ইসরায়েলপন্থী হিসেবে পরিচিত কনজারভেটিভ পার্টির প্রভাবশালী রাজনীতিক লর্ড পোলক। প্রীতি প্যাটেলও ইসরায়েল রাষ্ট্রের একজন গোঁড়া সমর্থক। কনজারভেটিভ দলের তহবিলের বড় জোগানদাতা ‘কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল’ এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন প্রীতি।ভারতীয়-উগান্ডান বংশোদ্ভূত প্রীতি প্যাটেল ২০১০ সালে লন্ডনের কাছের উইথ্যাম এলাকা থেকে এমপি নির্বাচিত হন। বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তিত্ব দিয়ে তিনি দ্রুত মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই করে নেন। ২০১৬ সালে থেরেসা মে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকে ডিএফআইডি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন। এ বিভাগ বৈদেশিক সাহায্য তহবিলের দেখভাল করে। ব্রিটেন বছরে জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বিভিন্ন দেশের মানবিক সেবায় সাহায্য হিসেবে দিয়ে থাকে। চলতি বছর এই সাহায্য তহবিলের পরিমাণ প্রায় ১৪ বিলয়ন পাউন্ড।

যৌন কেলেঙ্কারির জের ধরে গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন। একই অভিযোগে দুজন এমপিকে দল থেকে বরখাস্ত করেছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল। যৌন হয়রানির অভিযোগে তদন্ত চলছে উপপ্রধানমন্ত্রী ডোমিয়ান গ্রিনসহ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী ও এমপির বিরুদ্ধে। এমন অস্থির সময়ে ডিএফআইডি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আচরণ ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের নড়বড়ে নেতৃত্বকে আরও ঝুঁকিতে ফেলল।আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন দাবি করে বিষয়টিতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত দাবি করেছে লেবার পার্টি। প্যাটেলকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দল বলছে, তিনি যা করেছেন তাতে পদত্যাগ করাটাই হবে যৌক্তিক পরিণতি।

Share.

Leave A Reply