রোহিঙ্গা সংকটের রাজনৈতিক সমাধান চায় ইইউ

0

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কেবল রাজনৈতিকভাবেই হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তাবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টোস স্টাইলিয়ানাইডস। তিনি বলেছেন, এ সমস্যার উৎস মিয়ানমারের অভ্যন্তরে। রাখাইন রাজ্যের মানবিক অবস্থা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ইইউ খুবই উদ্বিগ্ন।তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা বিশ্বের অন্য যেকোনো মানুষের মতই অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়। এসব মানুষকে আশার আলো দেখানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশ হিসাবে ইইউর দায়িত্ব। রোহিঙ্গা সমস্যাটি চলতি দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ সঙ্কট।

আজ বুধবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের দেয়া ব্রিফিংয়ে স্টাইলিয়ানাইডস এসব কথা বলেন।বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গার উপস্থিতি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশের আলোকে রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে ইইউ’র কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন চায় সরকার। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য ইইউ চাপ অব্যাহত রাখবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।স্টাইলিয়ানাইডস বলেন, মাঠ পর্যায়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং বাংলাদেশের প্রতি ইইউ’র জোরালো সমর্থন জানাতে আমি এসেছি। বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গাদের প্রতি আমরা একাত্বতা প্রকাশ করছি। বিপুল সংখ্যাক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ অসাধারণ কাজ করেছে।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প আমি পরিদর্শন করেছি। যে দুর্বিসহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের যেতে হয়েছে, তা দেখে আমি মর্মাহত। বিশেষ করে পুষ্টিহীনতায় ভোগা রোহিঙ্গা শিশুদের অবস্থা কল্পনাতীত। তাদের স্কুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একটা প্রজন্মের জন্য একটি খুবই ভয়াবহ ব্যাপার।ইইউ মন্ত্রী বলেন, জেনেভাতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দাতা সম্মেলনে ৩৪ কোটি ডলার অর্থের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৭ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি এসেছে ইইউ থেকে। এটি মোট প্রতিশ্রুত অর্থের অর্ধেকেরও বেশি। ইইউ নৈতিক অবস্থান থেকেই রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।তিনি বলেন, গত মে মাসে আমি উত্তর রাখাইন সফর করেছি। এটা চলতি বছরের মধ্যে ওই অঞ্চলে উচ্চ পর্যায়ের প্রথম সফর ছিল। এই সফরে আমি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেছি। এই দুর্ভোগের এখন কোনো সীমা নেই।

ইইউ মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি আমাদের সহায়তা যেকোনো পরিস্থিতিতে অব্যাহত থাকবে। আমি আশা করি রোহিঙ্গার নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে পারবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া উচিত।

বাংলাদেশে সাথে ইইউ’র সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি বলে উল্লেখ করে স্টাইলিয়ানাইডস বলেন, এটা কেবল রোহিঙ্গা সঙ্কট বা মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না। আমাদের সম্পর্ক উন্নয়ন সহায়তা, বাণিজ্য, অভিবাসনসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত।কূটনৈতিক সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী সাইমন হেনশের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ ঢাকা এসেছে। উচ্চ পর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলটি মিয়ানমারের নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ শেষে বাংলাদেশে এলো।
প্রতিনিধি দলটি আজ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সাথে সাক্ষাত করেন। এতে সাইমন হেনশ বলেন, নজিরবিহীন রোহিঙ্গা সঙ্কটে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদার সাথে রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে পারে- সেজন্য আর্থিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র।রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে শক্তিশালী রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান শাহরিয়ার আলম। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান তিনি।

বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একমত পোষণ করেছে।বাংলাদেশ সফরে আসা মার্কিন প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম ব্যুরোর উপ-সহকারী মন্ত্রী স্কট বাসবি, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত উপ-সহকারী মন্ত্রী টম ভাজদা এবং পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক প্যাট্রিসিয়া মাহোনি। রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতিনিধি দলটি আজ কক্সবাজার যাবে।

Share.

Leave A Reply