‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ’ ‍উখিয়ায় ত্রাণ বিতরণকালে খালেদা জিয়া

0

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা খুবই দুর্বল। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।উখিয়ার ময়নারগুনা রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্রে সোমবার দুপুরে ত্রাণ বিতরণের সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, সরকারের যেভাবে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল, সেভাবে তারা তা করেনি এবং করছেও না। বরং যারা কাজ করতে চায় তাদেরও নানাভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণকালে খালেদা জিয়া বলেন, শুধু রিলিফ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বড় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু উপরে উপরে কথা, নিন্দা প্রকাশ এবং সহানুভূতি জানালেই হবে না, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।শনিবার গাড়িবহরে হামলার নিন্দা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেছেন, কারা হামলা করেছে সরকার তা জানে। তাদের ছবিও দেখানো হয়েছে। এভাবে হামলা করে লাভ হবে না। বরং এগুলো করে সরকার সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।কক্সবাজার সফরের তৃতীয় দিনে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে যান। তিনি ময়নারগোনা, হাকিমপাড়া, বালুখালী-২ ক্যাম্প এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

দুপুর ১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর উখিয়ার ওই আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছায়। বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা ছিলেন।এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি কক্সবাজার সার্কিট হাউস থেকে উখিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।ময়নারগুনা আশ্রয় শিবির পরিদর্শন শেষে খালেদা জিয়া হাকিমপাড়া ও বালুখালী রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন।সবশেষে বালুখালী পানবাজারে স্থাপিত ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মেডিকেল ক্যাম্পে ৫ হাজার রোহিঙ্গা শিশু ও প্রসূতি মায়ের জন্য চিকিৎসাসামগ্রী চিকিৎসকদের কাছে হস্তান্তর করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন।খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে পৌঁছানোর আগেই সকালে ১০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য আনা ৪৫ ট্রাক ত্রাণসামগ্রী সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে হস্তান্তর করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান।ত্রাণ হিসেবে প্রতি পরিবার পাবে ১০ কেজি চাল, কয়েক কেজি করে ডাল ও প্রয়োজনীয় কাপড়। ৫ হাজার শিশুকে দুধসহ শিশু খাদ্য ও ৫ হাজার প্রসূতি মাকে গর্ভকালীন প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করা হবে।রোহিঙ্গাদের দেখতে শনিবার ঢাকা থেকে রওনা হয়ে চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতি করে রোববার রাতে কক্সবাজারে আসেন খালেদা জিয়া।

Share.

Leave A Reply