ট্রাম্প কি কেনেডি হত্যার বিস্ফোরক সত্য ফাঁস করে দেবেন?

0

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনএফ কেনেডির হত্যাসংক্রান্ত তথ্য দীর্ঘদিন গোপন রাখা ফাইলের ভাণ্ডার উন্মুক্ত করে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বিবিসি বাংলা।এক টুইটবার্তায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, আরও কিছু তথ্য হাতে পাওয়ার পর তিনি এ ফাইলগুলো প্রকাশের অনুমতি দেবেন।আমেরিকার ন্যাশনাল আর্কাইভসের এই নথিপত্রগুলো ২৬ অক্টোবর খোলার কথা রয়েছে। তবে এগুলোর গোপনীয়তা রক্ষার মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।১৯৬৩ সালের নভেম্বর মাসে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে গুপ্তঘাতকের গুলিতে প্রাণ হারান জনএফ কেনেডি।আমেরিকার ন্যাশনাল আর্কাইভস ইতিমধ্যে তার হত্যাসংক্রান্ত বেশিরভাগ নথি জনগণের দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। শুধু শেষ কিছু ফাইল এখনও তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইটে লিখেছেন- আরও কিছু তথ্য পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি জনএফ কেনেডির মৃত্যুসংক্রান্ত ফাইলগুলো উন্মুক্ত করে দেয়ার অনুমতি দেব।১৯৯২ সালে মার্কিন কংগ্রেস রায় দিয়েছিল- কেনেডি হত্যার সব নথি ২৫ বছরের মধ্যে উন্মুক্ত করে দিতে হবে। যদি না প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেন যে, এসব নথি উন্মুক্ত করে দিলে তা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে।জাতীয় আর্কাইভে ওই হত্যাসংক্রান্ত তিন হাজারের বেশি নথি আছে, যা আগে কখনও প্রকাশ করা হয়নি। আর ৩০ হাজারের বেশি নথি আগে প্রকাশ করা হয়েছে, তবে কাটছাঁট বা সম্পাদনা করে।এখনও গোপন রাখা নথিগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেবেন নাকি সেগুলো সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হবে তা স্পষ্ট নয়।ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী, কেনেডির হত্যা বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তারা মনে করেন না যে, এখনও অপ্রকাশিত দলিলে বড় ধরনের বিস্ফোরক কোনো তথ্য আছে।

তবে ওই ফাইলগুলো প্রকাশ করা হলে কেনেডি হত্যার ঠিক আগে ১৯৬৩ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে লি হার্ভি অসওয়াল্ড মেক্সিকো সিটিতে কী করছিলেন সে বিষয়ে হয়তো কিছুটা আলোকপাত হবে।গুলি করার দিন লি হার্ভি অসওয়াল্ডকে ডালাসে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রেসিডেন্টকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। অসওয়াল্ড হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন তাকে ব্যবহার করা হয়েছে।ঘটনার দুদিন পর পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন নাইটক্লাবের মালিক জ্যাক রুবির গুলিতে প্রাণ হারান অসওয়াল্ড এবং কেনেডি হত্যাকাণ্ড আমেরিকান ইতিহাসে সবচেয়ে মুখরোচক ও বিশাল এক ষড়যন্ত্র তত্ত্বে রূপ নেয়।ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার সেন্টার ফর পলিটিক্সের পরিচালক এবং কেনেডিকে নিয়ে একটি বইয়ের লেখক ল্যারি সাবাতো বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, আমেরিকার মানুষ সত্য জানতে চান। অন্তত তাদের এটুকু জানার অধিকার আছে যে, আমেরিকার সরকার এত বছর ধরে মানুষের কাছ থেকে কী তথ্য লুকিয়ে রেখেছে।সঠিক তথ্য জানানোর জন্য আর দেরি করা উচিত নয়, মন্তব্য করেছেন সাবাতো।

Share.

Leave A Reply