সেনাবাহিনী কর্তৃক ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা আনয়ন

0

নিউজ ডেস্ক ::   সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেয়ার একদিনের মধ্যেই পাল্টে গেছে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের পরিস্থিতি। রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের অব্যবস্থাপনা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে প্রশাসনের লোকজন হিমশিম খাচ্ছিল।

শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে পুরো চিত্রই পাল্টে গেছে। সেনাবাহিনীর নির্ধারিত স্থানে পরিকল্পিতভাবে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। এতে করে ত্রাণ দিতে আসা ও ত্রাণ নিতে আসা সবাই শৃঙ্খলার ভেতরে চলে এসেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ১ হাজার রোহিঙ্গার জন্য ত্রাণ নিয়ে আসা মনোয়ার হোসেন জুয়েল জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে চারিদিকে শুধু অব্যবস্থাপনার কথা শোনেই আসছিলাম।

নিয়ে আসা ত্রাণগুলো বিতরণ নিয়েও শঙ্কিত ছিলাম। কিন্তু উখিয়ায় আসার পর সেনাবাহিনী যেইভাবে ত্রাণগুলো বন্টনে শৃঙ্খলা করে দিয়েছে তাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি।

নোয়াখালী থেকে দ্বিতীয়বার ত্রাণ দিতে আসা রিফাত মিয়া ও তার পাঁচ বন্ধু জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগের চিত্র আর এখনকার চিত্র পুরোটাই পাল্টে গেছে। আগে রোহিঙ্গারা যত্রতত্র ত্রাণের জন্য ঘুরতো।

এখন আর সেটি হচ্ছেনা। সেনাবাহিনীর নির্ধারিত স্থানের বাইরে কেউ ত্রাণ দিচ্ছেনা। তাই রোহিঙ্গাদেরও নির্ধারিত স্থান থেকে ত্রাণ নিতে হচ্ছে। তিনি আশা করেন আগামী দুই দিনের ভেতর সেনাবাহিনী পুরো ত্রাণ ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবে।

উখিয়া- টেকনাফের জেলা পরিষদ সদস্য আশরাফ জাহান কাজল জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বজুড়ে শান্তি রক্ষায় কাজ করছে। শরণার্থী শিবিরের বিষয়গুলোতে সেনাবাহিনী খুবই অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।

সেনাবাহিনী ১ দিনের ভেতরে ত্রাণ বিতরণে যেই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছেন তাতে মনে হচ্ছে এই সপ্তাহের ভেতরে ১২টি রোহিঙ্গা শিবির নিয়ন্ত্রণের ভেতর চলে আসবে। বৃহস্পতিবার সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক উখিয়ায় টেকনাফের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন।

কক্সবাজারের উখিয়ায় শনিবার থেকে ৩৬ বীর, ২৪ বেঙ্গল ও ৬৩ বেঙ্গল নামে ৩টি টিম রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীতে কাজ শুরু করে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কয়েক দফা রেকি ও পরিকল্পনা করে ত্রাণ বিতরণের জন্য প্রাথমিকভাবে কিছু স্থান নির্ধারণ করে সেনাবাহিনী।

ত্রাণ বিতরণের সহায়তার পাশাপাশি সরকারিভাবে উখিয়ায় নির্ধারিত ২ হাজার একর জমিতে ১৪ হাজার শেড নির্মাণ করবে সেনাবাহিনী। প্রতিটি শেডে ৬ জন করে ৮৪ হাজার পরিবার থাকার সুযোগ পাবেন।

শেড নির্মাণের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও পরিচালনা করবে সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গাদের জন্য স্থাপিত নতুন সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার মেজর মুহাম্মদ রাশেদ আকতার এস.পি জানান, পূর্ব সিদ্ধান্ত মতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এসে সেনা সদস্যরা প্রথমে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে কাজ শুরু করে।

অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন ও বিচ্ছিন্ন ত্রাণ বিতরণ এবং রাস্তায় রোহিঙ্গাদের অহেতুক জটলা সরিয়ে দিয়ে সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পমুখী করা হয়েছে।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ঢোকার আগে উখিয়া ডিগ্রি কলেজে এলাকায় সেনাবাহিনী একটি অফিস খুলেছে। এই অফিস থেকে ত্রাণ দিতে আসা ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ত্রাণ বিভিন্ন স্থানে সুষম বন্টন করা জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে।

রবিবার থেকে একটি টিম শেড নির্মাণের কাজ শুরু করবে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, নিপীড়নের শিকার হবার পর আশ্রয়ের আশায় বাংলাদেশে ঢোকে রোহিঙ্গারা। মানবিকতার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিক সহায়তা দিতে নির্দেশ দেন।

ইউকেবিডি নিউজ / এসএ

 

 

Share.

Leave A Reply