শ্রম আইনে একের পর এক চাপানো হচ্ছে শর্তের বোঝা

0

নিউজ ডেস্ক ::  প্রস্তাবিত শ্রম আইনে একের পর এক চাপানো হচ্ছে শর্তের বোঝা। যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নও কঠিন শর্তের জাল বিস্তার করেছে বাংলাদেশের জন্য। শর্ত না মানলে ইউ’র বাজারে বাংলাদেশের পোশাক ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্থ হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি। এমন অবস্থায় নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ। যা এই মাসেই পাঠানো হবে ইইউ বরাবরে।

বাংলাদেশের শ্রম পরিবেশ এবং শ্রম আইন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমাদেশগুলোর উদ্বেগ অনেক দিন থেকেই। কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, মানবাধিকারসহ বেশ কিছু ইস্যুতে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা হারিয়েছে বাংলাদেশে।

আর এবার বিশ্ব শ্রম সংস্থার সম্মেলনে বাংলাদেশকে শ্রম আইন উন্নয়ন এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় ট্রেড ইউনিয়ন চালুর নিদিষ্ট সময় বেধে দিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেই বেধে দেয়া সময় অনুযায়ী আইনের খসড়া আগস্টের মধ্যেই আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় জমা দেয়া হয়েছে। আর আসছে নভেম্বরেই তা চূড়ান্ত আইন আকারে রুপ দিতে হবে বাংলাদেশকে।

ইইউর দেয়া শর্তে বলা আছে, বাংলাদেশকে শ্রম আইন ও বিধিমালা সংস্কার করতে হবে। শ্রমিকদের সংগঠন করার স্বাধীনতা, এর গুরুত্ব সব স্থানে তুলে ধরা এবং বিভিন্ন সময়ে তার আলাদা কর্মপন্থা ঠিক করার অধিকার দিতে হবে। এই শর্ত ইপিজেডেও বিদ্যমান থাকবে। তদন্ত করতে হবে ট্রেড ইউনিয়ন বিরোধী কার্যকলাপের। আশুলিয়া এলাকায় শ্রমিক নির্যাতনের স্বরুপ উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া ২৬৯ কারখানা পরিদর্শক নিয়োগ ও ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সকেও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে বলেও ইইউর শর্তে বলা হয়েছে।

তবে শ্রম আইনের নতুন খসড়ায় আইএলও’র শর্তের অনেক কিছুই থাকছে না বলে জানা গেছে। সরকার বা সরকারের অধিনস্ত কোন অফিস, রেল, সড়ক, গণপূর্ত, সামরিক কারখানায় এই শ্রম আইন প্রযোজ্য হবে না। আবার বেআইনি ধর্মঘটের কারণে মালিক ইচ্ছা করলে তার কারখানা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকরা বেতন পাবেন না এবং অনুমতি ছাড়া কাজের সময় ট্রেড ইউনিয়নের কর্মসূচিতেও যেতে পারবেন না। নিহত শ্রমিক ক্ষতিপূরণ পাবেন তবে  একজন একটির বেশি সংগঠনের সদস্য হতে পারবে না।

কোন বিধান লঙ্ঘন করলে মালিকের জন্য শাস্তি মাত্র পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হলেও অসৎ আচরণে শ্রমিকের থাকছে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা। বেআইনী ধর্মঘট আর লক-আউটে দণ্ডের বিধান থাকলেও এক্ষেত্রে মালিকের চেয়ে শ্রমিকের শাস্তি বেশি।

তবে, আইএলও’র শর্ত মেনে থাকছে, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তৃতীয়পক্ষ। প্রসুতি কল্যান ও শ্রমিকের ভবিষ্যত তহবিলসহ শ্রম অসন্তোষ নিরসনে আলাদা বোর্ডও থাকছে নতুন খসড়া আইনে।

এইচএম/ইউকেবিডি

Share.

Leave A Reply