দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ার শরণার্থীর সন্তান!

0

কোরিয়া যুদ্ধে তুমুল প্রাণক্ষয় চলছিল তখন। ১৯৫০ এর ডিসেম্বর। সংঘাতস্থল উত্তর কোরিয়ার বন্দর নগরী হাংনাম। মুখোমুখি চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের (রাশিয়া) সমর্থনপুষ্ট উত্তর কোরিয়া জোটের সামরিক বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্র-জাতিসংঘ-ইউরোপসহ পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ট দক্ষিণ কোরিয়া জোটের সামরিক বাহিনী।
কিন্তু সংঘাতের মধ্যে উত্তর কোরীয় বাহিনীর সুবিধাজনক অবস্থানে খানিকটা বেকায়দায় পড়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া জোট।

সেখানে আটকা পড়ে জাতিসংঘ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী, একইসঙ্গে আটকা পড়ে উত্তর কোরিয়ার অনেক বেসামরিক লোকজনও। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান পদাধিকার বলে জরুরি অবস্থা জারি করেন সব সামরিক শক্তি ও বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার।
সামরিক বাহিনী তাদের সুবিধামতো জায়গায় সরে যাওয়ার পাশাপাশি নানা কায়দায় সেখান থেকে সরিয়ে বেসামরিক উত্তর কোরিয়ানদের রাখে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বন্দরনগরী পুসানসহ বিভিন্ন স্থানে।

এই বেসামরিক শরণার্থীদের মধ্যে ছিলেন মুন ইয়ং-হিয়াং ও ক্যাং হ্যান-ওক নামে এক দম্পতিও। তারা পুসান থেকে অদূরে আরেকটি শহর জেওসে বসতি গড়েন। শরণার্থী ইয়ং-হিয়াং জীবিকার জন্য শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে থাকেন যুদ্ধকালীন কারাগার জেওসে পো ক্যাম্পে।

তিন বছর পর ১৯৫৩ সালের ২৪ জানুয়ারি এই জেওসে’ই হিয়াং-ওক দম্পতির ঘর আলোকিত করে হাসে তাদের প্রথম সন্তান মুন জে-ইন।

তারপর হিয়াং-ওক দম্পতির সংসারে রচিত হয়েছে সংগ্রামের অনেক গল্প। সংগ্রাম করতে করতে দীর্ঘ ৬৪ বছর পর ওই শরণার্থী দম্পতির ঘরে জন্ম নেওয়া সেই জে-ইনই আজ পৌঁছে গেছেন প্রাযুক্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের আসনে। বুধবার, ১০ মে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বা জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রটির সর্বোচ্চ কর্তা হিসেবে শপথ নিয়েছেন জে-ইন।

শপথ নিয়েই অভিষেক অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীলতা ফেরানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জে-ইন। তবে তার বক্তৃতায় প্রকাশ পেয়েছে ‘পিতৃভূমি’র সঙ্গে ‘জন্মভূমি’র ‘সংঘাতপূর্ণ’ অবস্থা নিরসনের আন্তরিক ও একাগ্র ইচ্ছে।

সম্প্রতি কোরীয় উপদ্বীপ ঘেঁষে প্রশান্ত মহাসাগরে সামরিক শক্তির পাল্টাপাল্টি প্রদর্শনীর প্রেক্ষিতে উত্তেজনা ছড়াতে থাকার পরও জে-ইন বলে ফেলেছেন, তিনি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি চান। শান্তি ফেরাতে প্রয়োজনে পিয়ংইয়ংও সফর করবেন তিনি।

‘আমি বেইজিং থেকে টোকিও, সব জায়গায় যাবো। এমনকি সুবিধামতো সময়ে পিয়ংইয়ং (উত্তর কোরিয়ার রাজধানী) সফরেও যাবো। …এই কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ফেরাবোই। ’

Share.

Leave A Reply

8 − 5 =