খুলনায় পাটগুদামে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

0

JUTE02-FAIR-17.10-2ন্যাশনাল ডেস্ক :: খুলনা দৌলতপুরে এফআর জুট ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের পাট গুদামে আগুন লেগে কয়েক কোটি টাকার পাট পুড়ে গেছে। শনিবার বেলা ৩টার দিকে গুদামে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গুদামের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের খুলনা, বয়রা, খালিশপুর ও দৌলতপুরের ৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে কীভাবে আগুন লেগেছে তা জানা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে তিন শ্রমিক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদশ জুট এসোসিয়েশনের নেতা প্রবীণ পাট রফতানিকারক আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান জানান, গুদামের ধারণক্ষমতা ২০,৯২০ বেল। পূর্ণগুদাম পাট থাকলে তার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। তবে গুদামে কি পরিমাণ পাট ছিল তা কেউ জানাতে পারেনি। আগুন লাগার পরপরই এফআর জুট ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড অফিস থেকে সকলেই হঠাৎ করে চলে যায়। এফ আর জুট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আলহাজ্ব শরীফ ফজলুর রহমান ঘটনার সময় পার্শ্ববর্তী অফিসে অবস্থান করছিলেন। তিনি পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে সোনালী ব্যাংক দৌলতপুর শাখার ডিজিএম মো. আবু হোসেন শেখ জানান।

দৌলতপুর খান ব্রাদার্স-এর কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থিত এফ আর জুটের এই গুদামের মধ্যে সাতটি কম্পাউন্ড রয়েছে। তার সব কটিতেই আগুন এক সাথে জ্বলতে দেখা যায়, যা রহস্যজনক বলে জানিয়েছেন প্রবীণ পাট ব্যবসায়ীরা। এই গুদামে ধারণক্ষমতা বিশ হাজার বেল হলেও গুদামে অনেক কম পরিমাণ পাট ছিল বলে তারা জানান।
গুদামের সব স্থানে একসঙ্গে আগুন লাগা রহস্যজনক অভিমত দিয়ে প্রবীণ এক পাট ব্যবসায়ী জানান, পাউডার ছড়িয়ে আগুন দিলে যেমন সব স্থানে এক সাথে অগুন ধরে যায়, এই গুদামেও একইভাবে সব স্থানে এক সঙ্গে আগুন লেগেছে। প্রবীণ এই পাট ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে বলেন, পাটে কখনও আগুন লাগে না। পাটে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আর পাটে আগুন লাগলে বেশী লাভ হয় বীমা প্রতিষ্ঠানের। পাটের বাজারদরের যে অবস্থা, তাতে পাটে আগুন দিলেই বেশী লাভ।

গুদামটির পাট গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্সে বীমা করা রয়েছে বলে জানিয়েছে বীমা প্রতিষ্ঠানের জোনাল হেড জাহাঙ্গীর হোসেন আবেদ। তিনি জানান, গুদামের সকল পাটই বীমাকৃত। গত বছর মার্চ মাসে এই বীমা করা হয় এক বছর মেয়াদী। গুদামে দশ কোটি টাকার পাট ছিল বলে বীমা করা রয়েছে। সব কটি গুদাম মিলে বিশ কোটি টাকার প্যাকেজ বীমা রয়েছে।

সোনালী ব্যাংক দৌলতপুর কর্পোরেট শাখার ডিজিএম মো. আবু হোসেন শেখ জানান, এই পাট দৌলতপুর সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখায় বন্ধক রেখে তার বিপরীতে ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে। এফআর জুট কোম্পানি তাদের বড় ঋণগ্রহীতা। তার অনেকগুলো প্রকল্প রয়েছে এবং সবগুলোতেই ঋণ গ্রহণ করা আছে।
তবে এই গুদামের বিপরীতে তার কি পরিমাণ ঋণ আছে তা তিনি জানাতে পারেননি।

দমকল বিভাগের সহকারী পরিচালক বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি আগুন নেভাতে ১০-১২ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে আগুন কীভাবে লেগেছে আর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটুকু, তা তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না।

Share.

Leave A Reply

2 × 4 =