কলেজছাত্র হত্যা মামলায় ৫ ভাইয়ের যাবজ্জীবন

0

কলেজছাত্র বোরহান উদ্দিন গাজী ওরফে মারুফ (১৮) হত্যা মামলায় আপন ৫ ভাইকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এ রব হাওলাদার যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কিসমত শানতলা গ্রামের কলেজ ছাত্র হত্যা মামলার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কেশবপুর উপজেলার কিসমত শানতলা গ্রামের মৃত জয়নাল ধাবকের ৫ ছেলে মো. মহির উদ্দিন ধাবক (৪৫), মো. জহির উদ্দিন ধাবক (৪১), মো. কহির উদ্দিন ধাবক (৩৫), মো. দবির উদ্দিন ধাবক (৩০) ও মো. কবির উদ্দিন ধাবক (৩৩)। আদালতে উপস্থিত চার ভাই হলেন জহির, দবির, মহির ও কহির। আর কবির পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি এনামুল হক জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিসমত শানতলা গ্রামের মৃত জব্বার গাজীর ছেলে মো. শওকত গাজীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মৃত জয়নাল ধাবকের ৫ ছেলের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে ২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কিসমত শানতলা গ্রামের গাজীর মোড়স্থ দবির উদ্দিন ধাবকের বাড়িতে ডেকে নিয়ে শওকত গাজীর ছেলে রায়হান উদ্দিন গাজীকে (২৪) ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

সংবাদ পেয়ে সিদ্দিকুর রহমান গাজীর ছেলে মারুফ রায়হানকে উদ্ধার করতে যায়। তখন আসামিরা তাকেও বেধড়ক মারধর করে মারাত্মক জখম করে। স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। মারুফের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিন অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারুফ মারা যায়।

এ ঘটনায় নিহত মারুফের চাচা মৃত আব্দুল হামিদ গাজীর ছেলে মো. রজব আলি গাজী বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাসির উদ্দিন পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর যশোরের অতিরিক্ত জেলা জজ দ্বিতীয় আদালত থেকে খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

Share.

Leave A Reply

19 + four =