আজ পবিত্র আশুরা

0

অনলাইন ডেস্ক :: ’ত্যাগ চাই, মার্সিয়া ক্রন্দন চাহি না’…র দিন এলো। আজ মহররমের দশ তারিখ, পবিত্র আশুরা। পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা হতে এ যাবত অসংখ্য বিস্ময়কর ঘটনার দিন। শুধু মুসলিম নয়, সকল মানুষের কাছে দিনটি অবিস্মরণীয়। ইতিহাসে বিশাল জায়গা অধিকার করে আছে পবিত্র আশুরা। এই আশুরা ইসলামের ইতিহাসে এক অসামন্য তাত্পর্যে উজ্জল। ইবাদত-বন্দেগীর জন্যও এ দিবস অতুলনীয়।

সবকিছু ছাপিয়ে কারবালার মর্মন্তুদ সকরুন শোকগাথা এ দিবসকে গভীর কালো রেখায় উত্কীর্ণ করে রেখেছে। ৬১ হিজরি সালের এই দিনে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া ছাল্লামের প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে কারবালার ময়দানে শহীদ হন। পবিত্র আশুরা তাই মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাত্পর্যময় ও শোকাবহ দিন। দিনটি মুসলমানদের কাছে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার দিন। এ দিনটি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে খুবই প্রিয়। তাই তিনি এ দিনে রোযা পালনের সওয়াব প্রদান করে থাকেন বহুগুণে। মুসলমানদের কাছে। বিগত বছরের গোনাহ এর কাফফারা হিসাবে মহররমের দুটি রোজা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । হজরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত ঃ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া ছাল্লাম বলেছেন: রমযানের পর সর্বোত্তম রোযা হল আল্লাহর প্রিয় মুহাররম মাসের রোযা এবং ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হল রাতের (তাহাজ্জুদ) নামাজ” (সহিহ মুসলিম)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া ছাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করলেন, তিনি আশুরার দিনে ইহুদীদের রোযা পালন করতে দেখলেন। “ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া ছাল্লাম মদীনায় এসে দেখলেন যে, ইহুদীরা আশুরার দিনে রোযা পালন করছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন এটা কোন দিন যে তোমরা রোযা পালন করছো? তারা বললঃ এটা এমন এক মহান দিবস যেদিন আল্লাহ মুছা (আঃ) ও তার সমপ্রদায়কে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরআউনকে তার দলবলসহ ডুবিয়ে মেরেছিলেন। মুছা (আঃ) শুকরিয়া হিসেবে এ দিনে রোযা পালন করেছেন। এ কারণে আমরাও রোযা পালন করে থাকি। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তোমাদের চেয়ে আমরা মুছা (আঃ) এর অধিকতর ঘনিষ্ট ও নিকটবর্তী। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া ছাল্লাম রোযা পালন করলেন ও অন্যদেরকে রোযা পালনের নির্দেশ দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)।

বিগত এক বছরের গোনাহ সমূহের কাফফারা হিসাবে গণ্য হবে’ (মুসলিম হা/১১৬২; মিশকাত হা/২০৪৪)। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ “আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া ছাল্লামকে এ রোযা ছাড়া অন্য কোন রোযাকে এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি। আর তা হল আশুরার রোযা ও এই রমযান মাসের রোযা।” (বুখারী ও মুসলিম। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া ছাল্লাম আশুরার রোযা পালন করলেন ও অন্যকে পালন করার নির্দেশ দিলেন, তখন সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) বললেনঃ এটা তো এমন এক দিন যাকে ইহুদী ও খৃষ্টানরা সম্মান করে থাকে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ আগামী বছর আসলে ইনশা-আল্লাহ আমরা নবম তারিখে রোযা পালন করব। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ পরবর্তী বছর আসার পূর্বেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া ছাল্লাম ইন্তেকাল করলেন। (মুসলিম)। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া ছাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আশুরা দিবসে রোযা পালন কর ও এ ক্ষেত্রে ইহুদীদের বিরোধীতা কর।

এদিনে মুহাক্কিক আলেমদের মতে,কুরআন তেলাওয়াত ও আলোচনার আয়োজন করে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। যাতে ইমাম হোসাইন (রাঃ)-এর শাহাদাতের বদৌলতে আল্লাহ গোটাবিশ্বে ইসলামী শাসন কায়েম করার ব্যবস্থা করে দেন। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টিভি চ্যানেলসমূহ বিশেষ অনুষ্ঠান মালা প্রচার করছে। সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ প্রবন্ধ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আজ সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান এবং সংবাদপত্র অফিসসমূহে ছুটি থাকবে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

তাজিয়া মিছিলে দা,তরবারি বহন আতশবাজি নিষিদ্ধ

পবিত্র আশুরার মিছিল উপলক্ষে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদেশ জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এ আদেশ জারি করেন। আদেশে বলা হয়, ‘মহররমের তাজিয়া মিছিলে পাইক দলভুক্ত ব্যক্তিরা দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করে ক্ষেত্রবিশেষে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যা ধর্মপ্রাণ ও সম্মানিত নগরবাসীর মনে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টিসহ জননিরাপত্তার প্রতি হুমকিস্বরূপ। তাছাড়া পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো হয়, যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতাকে ম্লান করে।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সম্মানিত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি অর্ডিন্যান্স ১৯৭৬ এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Share.

Leave A Reply

seventeen + 3 =